বিতর্কিত আচরণে রাজ্যপাল ধনখড়ের অপসারণ চান মমতা

আন্তর্জাতিক

বিতর্কিত আচরণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল বা গভর্নর জগদীপ ধনখড়ের অপসারণ চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ মঙ্গলবার এই দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে। বিধানসভায় রাজ্যপাল বা গভর্নরের অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব নেওয়ার পদক্ষেপও ভেবে রেখেছে পশ্চিমবঙ্গে ভূমিধস জয় পাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

খবরে বলা হয়, ধনখড় রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই বারবার তার সঙ্গে সংঘাত বেঁধেছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল মতপার্থক্য সামনে এসেছে বারবার। আগেও দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ধনখড়ের ‘কার্যকলাপ’ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তখন তার অনুরোধ ছিল, ‘রাজ্যপালকে সংযত হতে বলুন।’

বিগত বিধানসভা ভোটের আগে থেকে ধনখড় ও সরকারের সংঘাত বড় আকার নেয়। ধনখড় প্রায় প্রতিদিনই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক টুইট করে চলেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপের ‘স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি’ হিসেবে তার কাজ করছেন বলে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা যে দিন শপথ নেন, সে দিনও ভোট পরবর্তী গণ্ডগোলের কথা তুলে রাজ্যপাল তাকে খোঁচা দেন। জবাব দেন মমতাও। একই ঘটনা ঘটে বাকি মন্ত্রীদের শপথের দিনেও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠান বা এই ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এমন আচরণ নজিরবিহীন। সর্বশেষ দু’টি ঘটনার একটি হল নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আগেই নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ভাবী মন্ত্রী এবং এক তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে সিবিআইকে সম্মতি দেওয়া। অন্যটি কোভিড পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি অগ্রাহ্য করে বিজেপি নেতাদের সঙ্গী করে ‘সন্ত্রাস’ দেখতে বেরিয়ে পড়া।

সোমবার তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের গ্রেফতার কেন্দ্র করে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে, রাজভবনের গেটে এবং বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ তুমুল আকার নিয়েছিল। তখনও রাজ্যপাল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে সরকারের বিরুদ্ধে টুইট করেন। মুখ্যমন্ত্রী তখন নিজাম প্যালেসে। সেখানেও রাজ্যপালের ফোন যায়। তখনও মমতা দৃঢ়ভাবে রাজ্যপালকে কিছু কথা বলেন।

আনন্দবাজারের খবরে আরও বলা হয়, এখন মুখ্যমন্ত্রী স্থির করেছেন, গভর্নর ধনখড়কে রাজ্যপাল পদ থেকে সরানোর দাবিতে সরকার ও শাসক দল সরব হবে। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিচ্ছেন তিনি। মমতার আরও সিদ্ধান্ত, এর পর বিধানসভাতেও রাজ্যপালের অপসারণ চেয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করবে শাসক দল। এই রাজ্যপালকে ‘বয়কট’ করার ডাকও দেওয়া হতে পারে। যেমন হয়েছিল জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট আমলে এ পি শর্মার ক্ষেত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *