নিশ্চিত এলবিডব্লিউ, ডিপিএলে অভিনয় করেন আম্পায়াররা!

খেলা

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এ নাকি খেলা পরিচালনা করেন দানব, কসাই, ট্রাফিক পুলিশরা! না, এই নাম আমজনতা দেয় নি। ত্যক্ত বিরক্ত ক্রিকেটাররাই এই নামগুলো দিয়েছেন। অনেকে এও বলেন, আম্পায়াররা অন্যের চিত্রনাট্যে অভিনয় করেন কেবল। ক্রিকেটারদের এসব পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন আজ সাকিব, এমন ধারণা অনেকেরই। যদিও প্রতিবাদের ভাষাটা সাকিবের মতো রোল মডেলের কাছ থেকে আশানুরুপ নয়।

এদিকে ক্রিকেট পাড়ায় গুঞ্জন আছে যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে সত্যিকারের ক্রিকেট ম্যাচের বাইরেও ২ ক্যাটাগরির ম্যাচ হয়। একটি ভাই বেরাদার ক্যাটাগরি, অন্যটি জুলুম ক্যাটাগরি। শেষের ক্যাটাগরির ম্যাচগুলোকে কেউ কেউ বলে থাকেন কোপাকুপি ম্যাচ।

আর এই ম্যাচগুলোর চিত্রনাট্যের প্রধান দৃশ্যে অভিনয় করেন দানব, কসাই কিংবা ট্রাফিক পুলিশেরা। প্রশ্ন আসতে পারে ক্রিকেট মাঠে এরা কোত্থেকে আসলো? এখানেই জানা গেল, নিজেদের কর্মকান্ডের জন্য গত কয়েক বছর যাবত ক্রিকেটারদের কাছ থেকেই এই নামগুলো পেয়েছেন আম্পায়াররা।

এদিকে প্রিমিয়ার লিগের ফিক্সচার দেখে এখন দর্শকরাই বলে দিতে পারেন যে কোন ম্যাচ কোন ক্যাটাগরির। আর খেলোয়াড়দের মানসিকতায় তো তা থাকেই। আবাহনীর হেভিওয়েট প্লেয়ার মুশফিকের নিশ্চিত এলবিডব্লিউ যে আম্পায়ার দেবেন না, তা হয়তোবা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন আরেক হেভিওয়েট সাকিব। মেজাজ হারিয়ে স্ট্যাম্পে লাথি মেরে বসলেন। স্বীকার না করে উপায় নেই যে এই আচরণ পুরোপুরি ক্রিকেটীয় চেতনার পরিপন্থী। বেআইনিও বটে।

এ সময় মানসিকভাবে সাকিব যে এই ম্যাচ নিয়ে তেঁতে ছিলেন তার দ্বিতীয় দফা প্রমাণ মিলেছে এর পরের ঘটনায়। ষষ্ঠ ওভারের ১ বল বাকি থাকতে আম্পায়ার যখন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ করতে চাইলেন তখনো ক্ষেপে উঠলেন সাকিব, হাত দিয়ে স্ট্যাম্প উপড়ে ফেললেন। টি-২০ এর নিয়মানুযায়ী দুই পক্ষে অন্তত ৫ ওভার করে খেলা হলেই ডাকওয়ার্থ লুইসের নিয়ম কাজ করে, আর এই ঘটনার সময় আবাহনীর ডাকওয়ার্থ লুইস পার স্কোরটা ছিল ৪৭।

তার মানে তখন খেলা আর না হলেও জয়ী দলের নাম হতো মোহামেডান। সেক্ষেত্রে নিজেরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার পরও কেন এমন করলেন সাকিব? এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে আম্পায়ারদের ব্যাপারে খেলোয়াড়দের মাথায় ঢুকে থাকা পূর্ব ধারণা। নাকি ৫ ওভারের নিয়মটি জানা ছিল না সাকিবের?

এদিকে দেশের ফুটবলের আজকের এই বেহাল অবস্থার জন্য অনেকেই দায়ী করেন বাজে রেফারিং আর পাতানো ম্যাচকে। ক্রিকেটের সংগঠকরাও মনে করেন, আম্পায়াররা পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বের না হলে ঘরোয়া ক্রিকেটকে অচিরেই ভোগ করতে হবে ফুটবলের পরিণতি। আম্পায়ারদের এহেন কাণ্ডে কেউ কখনো প্রতিবাদ করেন না। সাকিব তো সব কিছুতেই ব্যতিক্রম। হয়তো সেই প্রতিবাদটিই তিনি করেছেন। যদিও প্রতিবাদের ভাষাটা নিদাহাস ট্রফির শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মতো পরিণত হতে পারতো আজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *