সাকিবকাণ্ডে বিস্ময়, লাথি মেরে ভাঙলেন স্টাম্প

আলোচিত খেলা

ঘরোয়া ক্রিকেটের আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক বহুদিন ধরে। দু-একটি দলের পক্ষে আম্পায়াররা পক্ষপাতদুষ্ট, তা সর্বজনবিদিত। সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে অনেক। কিন্তু লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙে দেওয়ার ঘটনা খুবই কম রয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টি-২০ প্রিমিয়ার লিগে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী ও মোহামেডানের লড়াইয়ে এমনটিই করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আম্পয়ারের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে লাথি মেরে স্টাম্প ভাঙেন। পরের ওভারেই হাত দিয়ে তিন স্টাম্প উপরে ফেলেন। তৃতীয় ধাপে মাঠ থেকে বেরোনোর সময় আবাহনীর সমর্থকদের কটূক্তি করার পাশাপাশি দলটির কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে বচসায় লিপ্ত হন। মোহামেডান অধিনায়ক সাকিবের এহেন আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যদিও বৃষ্টি¯œাত ম্যাচটি ডিএল মেথডে ৩১ রানে জিতেছে মোহামেডান। আম্পায়ারের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন সাকিব। এদিকে বিসিবি জানিয়েছে, ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের পর বিষয়টির তদন্ত করবে।

অবিশ্বাস্য ঘটনার সূত্রপাত আবাহনীর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে। মোহামেডানের ছুড়ে দেওয়া ১৪৬ রানের টার্গেটে ৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা মুশফিক বাহিনী। চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিক ও নাজমুল শান্ত দলকে টেনে নিয়ে যেতে ব্যস্ত। তখন পঞ্চম ওভারের শেষ বলে লাথি মেরে উইকেট ভেঙে ফেলেন সাকিব। আর্ম বলটিতে মুশফিকের বিপক্ষে লেগ বিফোরের আবেদন করেন সাকিব। কিন্তু আম্পায়ার ইমরান পারভেজ রিপন সাড়া দেননি। সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি মোহামেডান অধিনায়ক। সবাইকে অবাক করে লাথি মেরে উইকেট ভেঙে ফেলে আম্পায়ারের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। এই পর্ব চলে বেশ কিছুক্ষণ। দ্বিতীয় পর্ব শুরু ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে। বৃষ্টি হতে থাকলে আম্পায়ার মাঠকর্মীদের কাভার নিয়ে আসার জন্য ইশারা দেন। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি সাকিব। তিনি দৌড়ে এসে হাত দিয়ে উইকেট তিনটি উপরে ফেলেন। শুধু তাই নয়, একটি স্ট্যাম্প উল্টো করে মাটিতে চেপে ধরেন। তৃতীয় ধাপের শুরু মাঠ ছাড়ার সময়। আবাহনীর ড্রেসিং রুমের দিকে অশালীন ভঙ্গি করেন তিনি। ড্রেসিং রুমের বাইরে থেকে তাকে কিছু বলতে বলতে এগিয়ে যান খালেদ মাহমুদ। তেড়ে আসেন সাকিবও। তাকে থামান মোহামেডানের ক্রিকেটাররা। খালেদ মাহমুদকে থামান মোহামেডানের ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ। অবশ্য ম্যাচ শেষে বিতর্কিত আচরণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বলেন, ‘প্রিয় ভক্ত ও অনুসারীগণ, মেজাজ হারানোর জন্য ও ম্যাচ নষ্ট করার জন্য আমি সবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি যারা ঘরে বসে দেখছেন। আমার মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের উচিত হয়নি এভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো। মানবিক এ ভুলের জন্য আমি দলগুলোর কাছে, ম্যানেজমেন্ট, টুর্নামেন্ট অফিসিয়ালস ও আয়োজক কমিটির কাছে ক্ষমা চাইছি। আশা করি, ভবিষ্যতে আমি আর এরকম করব না। ধন্যবাদ ও ভালোবাসা সবার জন্য।’

এমন ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। এরপর শুরু হলেও ৯ ওভারে আবাহনীকে টাগের্ট দেওয়া হয় ৭৬ রান। আবাহনী ৬ উইকেটে ৪৪ রান করে হেরে যায় ৩১ রানে। লিগে ৭ ম্যাচে আবাহনীর এটা দ্বিতীয় হার এবং সমসংখ্যক ম্যাচে মোহামেডানের এটা চার নম্বর জয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *